এমসিসিআইয়ের বাজেট আলোচনায় আনিসুজ্জামান চৌধুরী

বৈদেশিক ঋণের কারণে দেশের নীতিনির্ধারণে বিদেশীদের প্রভাব রয়েছে

বৈদেশিক ঋণ নেয়ার কারণে দেশের নীতি-নির্ধারণে বিদেশীদের প্রভাব রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার অর্থবিষয়ক বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী।

বৈদেশিক ঋণ নেয়ার কারণে দেশের নীতি-নির্ধারণে বিদেশীদের প্রভাব রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার অর্থবিষয়ক বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী। তার ভাষ্য, ‘বিনিয়োগ করলে বিনিয়োগকারী দেশগুলোকে প্রযুক্তি শেয়ার করতে হয়, ক্ষতি হলে তা মানতে হবে। কিন্তু ঋণ গ্যারান্টেড আয়, এখানে লসের সুযোগ নেই। তাই তারা বিনিয়োগের চেয়ে ঋণ দিতে বেশি আগ্রহী।’

রাজধানীর পুলিশ প্লাজায় গতকাল মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) ও গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত বাজেট পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘উন্নয়ন খাতে বিদেশী সহায়তা গ্রহণ করতে গিয়ে শর্ত মেনে চলতে হয়। ফলে রাজস্ব আদায় ও বিদেশী বিনিয়োগ—উভয়ই বাধাগ্রস্ত হয়। তাই বিদেশী ঋণ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী বলেন, ‘আমাদের করনীতি কবে হবে, কত বছরে বাস্তবায়ন হবে তা নিয়ে পরিকল্পনা নেই। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ায় দেখেছি, শুধু ভ্যাট বাড়ানো নিয়ে একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে হেরে গেছে।’

দেশের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতের সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে জাতীয় ঐক্য নেই। নিজেদের ক্ষুদ্র রাজনৈতিক স্বার্থ নিয়ে আমরা ভাবি। এখানে চিকিৎসক ও শিক্ষকদের মধ্যে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য দলের আলাদা আলাদা সমিতি আছে। এমন সব সেক্টরেই রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিভেদ রয়েছে।’

আনিসুজ্জামান চৌধুরী প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘আমরা কেন এগিয়ে যেতে পারিনি, আমাদের ঘাটতি কোথায়? আমাদের অভাব হলো, কোনো ভিশন নেই। সামান্য সর্দি লাগলে সিঙ্গাপুরে চলে যাই। তাহলে দেশের স্বাস্থ্য খাত কীভাবে দাঁড়াবে? থাইল্যান্ডের সব হাসপাতাল তাদেরই তৈরি, তারা বাইরে যায় না। অনেক দেশেই দুর্নীতি হয়, কিন্তু সেই টাকা সে দেশেই আবারো বিনিয়োগ হয়। আমি দুর্নীতির সাফাই গাইছি না। কিন্তু তাদের সেই টাকা দেশেই আবার কাজে লাগে। অথচ আমাদের টাকা চলে যায় বাইরে। সবার আগে জাতি, এই নীতি আমরা এখনো বাস্তবায়ন করতে পারিনি।’

নেতিবাচক রাজনীতির সমালোচনা করে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী বলেন, ‘আমাদের দেশের রাজনীতি নেগেটিভ। আমরা দফার রাজনীতি করি। কিন্তু এসব দফা বাস্তবায়নের জন্য নির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই। দেশের জনসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশেরই বয়স ১৫-২৯ বছরের মধ্যে। অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের বেশির ভাগ শীর্ষ নেতারই বয়স ৭৫-এর বেশি। তারা কীভাবে তরুণদের মনোভাব বুঝতে পারবেন? তারা বয়সীদের সঙ্গে ভালো যোগাযোগ তৈরি করতে পারছেন না। এ প্রজন্মকে প্রস্তুত করবেন কীভাবে? কারা করবে? যারা করবে তাদেরকে এ প্রজন্মের এক্সপ্রেশন বুঝতে হবে।’

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি. সাত্তার। এছাড়া আরো বক্তব্য দেন, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জাইদী সাত্তার, এমসিসিআইয়ের ট্যারিফ অ্যান্ড ট্যাক্সেশন কমিটির চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদসহ আরো অনেকে। অনুষ্ঠানে কী-নোট উপস্থাপন করেন পিআরআইয়ের গবেষণা পরিচালক ড. বজলুল হক খন্দকার। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এমসিসিআইয়ের ট্যারিফ অ্যান্ড ট্যাক্সেশন কমিটির সদস্য আদিব এইচ খান।

আরও